ফেরার ট্রেন ধরেছি | Prajna Paramita

Story Illustration

ফেরার ট্রেন ধরেছি

✍️ Prajna Paramita

নীলা আজ একটু আরামে আছে, অনেকদিন পরে। কারণ রঞ্জন বহুদিন পরে অফিসের কাজে ব্যাঙ্গালোর গেছে। এই কটাদিন অন্ততপক্ষে একটু বাঁচা যাবে। অত্যন্ত স্বার্থপর, মিথ্যাবাদী, নাটুকে এবং অকারণ দম্ভ দেখানো মানুষের সঙ্গে নিত্যদিন একসঙ্গে কাটানো খুব কঠিন।

দেখতে দেখতে পঞ্চান্ন বছর বয়েস হলো, আর কত?

ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে গেছে। এখন আর কিসের মায়া? এই সংসারে বাড়তি তো সে বহুকাল থেকে, এখন নাহয় নিজের বোঝা কমিয়েই দিল।

সারারাত খুব ভালো করে ঘুমিয়েছে নীলা অনেকদিন পরে। সকালে বিছানায় শুয়ে রইলো বহুক্ষণ ধরে, কোথাও কোনো তাড়া নেই, সবসময় বড় বড় বোলচাল আর ব্যস্ততার দেখানেপনা নেই। নেই অকারণ অহঙ্কারের আস্ফালন। ঘর বাড়ী জুড়ে শান্তি।

বেলা গড়িয়ে যাবার পরে নীলা বিছানা ছাড়লো। রান্না করলো নিজের জন্যে আতপ চালের ভাত আর আলু সেদ্ধ। খাবার সময় একটু নুন আর কাঁচালঙ্কা হলেই স্বর্গের মত। স্নান করে এসে একটু বসে রইলো চোখ বন্ধ করে। তারপর খুব মন দিয়ে এবং আনন্দের সঙ্গে খাওয়া শেষ করলো।

নিজের ঘরে এসে টেবিলে বসে সাদা কাগজ বার করে লিখতে বসলো।

রঞ্জন,

তোমাকে "আমার রঞ্জন" বলে আর সম্বোধন করা যাবে না। যদিও আমার মনে প্রাণে তুমি আমারই, কিন্তু তোমার মনে তো তা নয়।

বসন্তের প্রকৃতি আর পড়ন্ত বেলার আলো গায়ে মেখে বাপের বাড়ী ছেড়েছিলাম তোমার হাত ধরে। বিয়ের রাতের মন্ত্রধ্বনি এখনও কানে বাজে।

তোমার সাজানো ঘরে আমাদের ভালোবাসার উষ্ণতা উপচে পড়তো তখন। হৃদয়ের ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে ভিড় করে আসতো। স্বপ্নগুলো একটার পর একটা গল্প বুনে যেত অক্লান্ত ভাবে।

বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছায় সংসার সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছি, ভবিষ্যত দেখবো বলে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরার তৃষ্ণা ছিল আমার। তোমার বুকের কাছে ছিল আমার উন্মুক্ত পৃথিবী।

পিপাসা আমার মিটেছিল এক বিন্দু আলোর স্পর্শে। হৃদয়দানে পূর্ণ হয়েছিল মাটির কোল। স্বপ্নশস্য চিনিয়ে দিয়েছিল মা হবার আনন্দ।

দিন যায়, রাত যায়, কালের নিয়ম মেনে কিন্তু কোথায় যেন হারিয়ে যেতে থাকে আমাদের সেইসব দিন রাতগুলো, যখন সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা নিজেদের সার্থক সফল বলে বুঝে নিতাম।

ধীরে ধীরে কখন আমাদের প্রেমের উষ্ণতা ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়েছে, পরস্পরের সঙ্গ হয়ে উঠেছে অসহ্য।

দিগন্ত বিস্তৃত তারায় ভরা আকাশ, অঝোর ধারায় বৃষ্টি, শরতের আলোর ঝলকানি এইসব নিয়ে কথা বলতে গেলে মনে হয় ন্যাকামি, অথচ একদিন এগুলো আমাদের দুজনের কাছাকাছি হবার প্রেরণা ছিল।

তোমাকে সবাই চায়, ভালোবাসে, ডাকে। তোমার মধ্যে এতকিছু আছে, এত ক্ষমতা, এত কাজ, এত বুদ্ধি, এত জানা, এত পড়াশুনা, এত বোঝা,-- এইসব নিয়ে তুমি ভারাক্রান্ত, সেখানে আমার জন্যে তোমার অবসর কোথায়? তুমি তো সকলের কাছে আলোর দিশারী, আমি ঘরের কোণে একা নিভৃতচারী। দূরত্ব বাড়ছে, বেড়েই চলেছে। দূরত্ব আমাদের ছুঁয়ে রাখে কেবল। আমরা শীত ঘুমের দেশে চলে যাচ্ছি। চোখের জলের বৃষ্টি সবাই দেখতে পায় না। তুমিও দেখ নি।তোমাকে দোষ দিই না। তোমার ধরণটাই আলাদা। কিছুটা অভিনয় করে, কিছুটা আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে নানারকম কৌশলের সদ্ব্যবহার করতে তুমি। আমি বুঝি সব, কিন্তু তোমার মত আমি হতে পারতাম না।

সদ্য ঘুম ভাঙা মিষ্টি সকাল, মধ্যাদিনের অলস দুপুর, আর গভীর রাতের অন্ধকারের সময়গুলো এক পা এক পা করে পিছন পথে হেঁটে চলেছিল, আমার চোখে পড়ে নি। অনেক পরে বুঝেছি, ঘরে বাইরে এক শিকলে বাঁধা পড়ে গিয়েছি আমি।

মুক্তি নেই আমার।

মনে পড়ে সেদিনের কথা, আমার জ্বর হয়েছিল, তোমাকে বলেছিলাম, আজ যেও না অফিসে, আমার কাছে থাকো। তোমার বিরক্তি, হতাশা, রাগ, দুঃখ সবকিছু আমাকে চাবুকের আঘাত করছিল। বুঝেছিলাম সম্পর্কের কাঠামো মেরামত করতে হবে। তাই বললাম, "তুমি যাও"। তুমি যেভাবে সেদিন ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিলে, তাতে আমার মনে হয়েছিল, তুমি মুক্তি চাও আমার থেকে। ভুলি নি রঞ্জন তোমার সেই দৃষ্টি, মনে মনে বুঝে নিলাম, এত কাল যে রং দিয়ে সাদা কাগজ ভরে নিয়েছি তা ধুয়ে গেছে জলছবির মত।

সেই শুরু, মনের মধ্যে পলিমাটির চাদর, বলা আর না বলার মাঝে হারিয়ে গেল কত কথা, কত ব্যথা। একে অন্যের বোঝা বয়ে নিয়ে চলতে থাকা।

আর বইতে হবে না আমাকে, এবার তোমাকে ছেড়ে যাবার ব্রত নিয়েছি আমি।

জীবনের অঙ্ক গুলো বার বার মেলানোর চেষ্টা করে গিয়েছি আমি, ক্লান্ত হয়েছি কিন্তু থেমে যাই নি। তোমাকে ধরে রাখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজের অস্তিত্ব। বিষণ্ণতা কে দুহাত দিয়ে ঠেলেছি একটু বাঁচতে চাই বলে। সম্পর্ককে ছুঁতে চেয়েছি যখন, তখন তোমার নাগাল পাই নি।

সন্তানদের তো বড় করতেই হবে। ওরা আমায় ধরে থেকেছে বলেই আমি নৈঃশব্দের মধ্যেও কোলাহল খুঁজে পেয়েছি। পিছুটান কি যে জিনিস তা কি তুমি জানো?

সংসার গড়ে তুলে তাকে ভেঙে ফেলা যায় হয়তো, কিন্তু তাতে মনের জোর লাগে,আমি তো একটু দুর্বল স্বভাবের। কঠিন জিনিস কঠিন করে ভাবার ক্ষমতা আমার নেই।তার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া সহজ।

বুকের ভিতরে কষ্ট হচ্ছে রঞ্জন, আমার কেউ নেই তুমি ছাড়া, তোমাকেও ছেড়ে যেতে হবে আমায়।

তুমি আমাকে খুব ভালো করে চেনো আর জানো তো বটেই, তবুও মাঝে মাঝে না জানার ভান করে থাকো। এতে কি লাভ? এতগুলো বছর পাশাপাশি থাকলেও ভান করে চলতে হয়? কাছাকাছি, পাশাপাশি শব্দগুলো আমার কাছে অর্থহীন হয়ে গেছে। আমি জানি তুমি একা থাকতে চাও, কারও জন্যে কিছু করতে চাও না, ভাবতে চাও না। তুমি অনেক জায়গায় যেতে চাও, অনেকের কাছে যেতে চাও, এই চাওয়ার পথে তোমার পরিবারকেই প্রধান বাধা বলে তুমি মনে করো, বিবাহিত জীবন তোমার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে বলে তোমার ধারণা। তুমি সবাইকে বাদ দিয়ে নিজের মত করে বাঁচতে চাও।

তোমার এই ভাবনাগুলো আমি বুঝি বলেই নিজের সঙ্গে নিজেই লড়াই করে যাচ্ছি।

কতদিন তোমার হাত ধরি নি রঞ্জন! নিজেদের স্পর্শ করলে কেমন লাগতো, ভুলে গিয়েছি আমরা।

মন উদাসী হয়ে যায়, অনেক দিনের অনেক চাওয়া পাওয়ার কথা ভেসে আসে। ফিরে দেখা যদি যেত!

মুছে যাওয়া দিনগুলি পিছু ডাকলেও ফিরে যাবার সামর্থ নেই।

ঋতু পরিবর্তন হয়, দিন আসে, দিন যায়, তবে আমি আর ফিরবো না তোমার সংসারে।

আজ প্রায় পনেরো বছর হলো আমি ভালো নেই রঞ্জন। তুমি আমার পাশে শুয়ে থাকো, কিন্তু বোঝো না একজন মরে যাওয়া মানুষ প্রতিদিন বেঁচে ওঠার চেষ্টায় কি পরিশ্রম করে চলেছে।

তোমার অবহেলা আমায় শিখিয়েছে নিত্যদিনের জটিল ধারাপাত। অনেকটা পথ একসঙ্গে পেরিয়ে আসার পর সঙ্গী যখন বার বার হারিয়ে যেতে ব্যস্ত হয়, তখন কত আর তাকে খুঁজে খুঁজে আনা যায়?

মনে পড়ে বিয়ের পর প্রথম বেশ কিছু বছর তুমি একটা খেলা খেলতে আমার সঙ্গে। কোথাও একসঙ্গে গেলেই একটু পরেই তুমি "একটু আসছি" বলে কোথায় যেন যেতে। আমার এত অসহায় লাগতো তখন, কিন্তু কি আর করবো? বহুবার বলেছি এমন না করতে, তুমি কোনোদিন শোনো নি সে কথা।

মন খারাপের দিনগুলো সব স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে আছে। আপন মানুষেরা যখন মুখোশ পরে নেয়, তখন সম্পর্কের বাঁধন কি আর শক্ত থাকে?

বিকেল গড়িয়ে গেল রঞ্জন, আমারও বেলা শেষ। আমাকেও চলে যেতে হবে। বাড়ির পিছনে গন্ধরাজ ফুলের গাছে প্রচুর ফুল ফুটেছে, প্রথম যখন সেই গাছের ফুল এনে তোমায় দিয়েছিলাম, তুমি হাসলে কিন্তু তাতে আনন্দ ঝরে পড়লো না। তোমার আসলে এই বোকা বোকা ব্যাপারগুলো ভালো লাগে না।

আমার মন তখন আড়াল খোঁজে। ভালোলাগা গুলো কেমন একা হয়ে যায়।

কোনো কিছুকে সহজ ভাবে দেখতে পারো না তুমি। তোমার এই দৃষ্টিভঙ্গী আমাকেও বদলে দিয়েছে। আমিও আর আগের মত নেই।

তাই তোমার বাড়ির বাইরে থাকার সময়টাই আমি বেছে নিলাম। তুমি রাত জাগতে পারো না, কষ্ট হয়, তাই একটু বেশী রাত করেই ঘুমাবো। তোমার বাড়ী ঢুকতে ছটা তো বাজবেই, দরজা আটকানো থাকবে,তুমি প্রথমে বেল বাজাবে, সাড়া না পেয়ে চাবি দিয়ে দরজা খুলবে।

রঞ্জন তোমার জন্যে রইলো আমার যা কিছু ভালো, আর আমার দুচোখে আজ শুধুই আলোর মালা।

চলে যাবো, যেতেই হবে। তুমি যখন আমাকে ভালোবাসতে তখন তোমার প্রয়োজন খুব বড় হয়ে দেখা দিত। একটা মানুষ কি শুধুই প্রয়োজন নিয়ে বাঁচতে পারে? মানছি আমি,কর্ম জগৎ সব পুরুষকে দেয় পরিচিতি, গতি, ক্ষমতা, আকাঙ্খা ইত্যাদি তাই বলে ভুলে যেতে হবে বাকি সবকিছু?

একটা একটা করে কেটে গেছে বছরগুলো। তুমি আমায় কম তো দাওনি, তবুও বুকের মধ্যে চিনচিনে ব্যথা, এমন কিছু কেন দিলে না আমায় যার স্পর্শে পূর্ণ হয়ে উঠতে পারতাম? দেওয়া নেওয়ার পথ কেন সুন্দর স্বার্থহীন হয়ে উঠলো না আমাদের?

নিজের মুখোমুখি হয়ে অনেক ভেবেছি, অনেক খুঁজেছি এমন কিছু যা আমাকে নতুন করে পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবে, পাই নি আমি, শেষ রাতের স্বপ্নের মত ইচ্ছেগুলো সব ধূসর হয়ে মিলিয়ে গেছে। আর কত ছুটে বেড়াবো আমি আশার পিছনে?

এক বসন্তে প্রেমের জোয়ারে ভেসেছিলাম, নিখাদ বন্ধনে ছিল মুক্তির স্বাদ। অনুরাগের পূর্ণিমায় আলোকিত ছিলাম বলে স্বার্থের গন্ধ পাই নি, অনুভবেও আসে নি তখন গভীর পার্থক্যের ব্যবধান।

বুঝতেই পারি নি রঞ্জন, আসলে আমার জন্যে তোমার প্রেম ছিল না কখনও, ছিল প্রেমের মতন একটা কিছু। আর ছিল সুযোগকে কাজে লাগানো।

নিজেরটুকু বুঝে নিতে তোমার অসুবিধে হয় না বরাবর। তুমি খুব ভালো ছেলে, সবার কথা ভাবো, সবার কষ্টে তুমি কষ্ট পাও। কিন্তু এই সবার মধ্যে আমি নেই কোথাও। কখনও ছিলাম না।

আমি তো হিসেবের বাইরের মেয়ে চিরদিন। বর্ষা আসলেই আমি মেঘদূতের নায়িকার মত চিঠি লিখতে বসি, মনে মনে মেঘ পিওনের জন্যে অপেক্ষা করি। হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির জল ধরি।

এইসব ছোট ছোট ছেলেমানুষী আমার আর গেল না। বুঝি তোমার খুব বিরক্ত লাগে। এই জীবনের জন্যে তোমার আছে হাজার রকমের রাগ আর দুঃখ।

হিসেব করে, বুঝে নিয়ে তোমার সঙ্গে মিশতে পারিনি আমি। আবেগ আমাকে কাঁদায় হাসায়, কিন্তু তোমার কাছে এর তো কোনো মূল্যই নেই।

কাল ভোর নাগাদ বাড়িতে পৌঁছে আমাকে যখন দেখবে ঘুমিয়ে আছি, তখন রাগ করো না। একটু পাশে বসে থেকো। কপালে হাত রেখো। আর এই চিঠি আমি রেখে দেব তোমার আলমারীতে যেখানে একমাত্র তুমি ছাড়া কেউ হাত দেয় না সেইখানে। আমাকে শেষবারের মত জড়িয়ে নিও তোমার বুকে।

অনেক রাত হলো, আমার ও সময় হলো। অমৃত পথের যাত্রী হয়ে যাব। ভাবনাগুলো আমার ভেসে যাচ্ছে একের পরে এক।

তোমার নিজের জন্যে রাখা যে ঘুমের ওষুধগুলো, আমি ওগুলোই খেলাম।

ঘুম আসছে আমার। তোমার ঘরে বসবাস আমার সাঙ্গ হল। সময় এগোচ্ছে। অনেক স্বপ্ন চোখে আমার ভেসে আসছে। পূর্ণিমার রাতে তোমার পাশে বসে সমুদ্রের ধারে আমি।

ভাবছো তো আমি খুব সাহসী তো নই, বিদ্রুপের দৃষ্টিতে দেখো না কিন্তু। সত্যিই একটু ভয় তো পাই, তাই ঘুমের ওষুধটাই বেছে নিলাম।

তোমার অবহেলার, উদাসীনতার দৃষ্টি আমার সহ্য হয় না। খুব যন্ত্রণা হয়।

রাখি এবারে রঞ্জন, চোখের আলো নিভে আসছে। এত ডাকছি, তবু কি শুনতে পাচ্ছ না, ও রঞ্জন, তুমি কোথায়? আমি যে তোমায় একটু ছুঁতে চাই।

***তোমার***

প্রজ্ঞাপারমিতা রায়


About the Author:

Prajna Paramita Roy , earned her Master’s degree in Bangla from Visva-Bharati University, Santiniketan. Deeply inspired by Rabindranath Tagore’s ideals, she has dedicated over three decades to teaching Bangla Literature and Language, instilling in her students a holistic approach to education that blends knowledge with creativity and sensitivity. Based in Kolkata, she nurtures a lifelong passion for both teaching and music.



Comments & Related Articles

Read more reflections on life, art, and the human spirit from our contributors.

Ganga Zuari International: Connecting Cultures Across the Globe

Join us in promoting cross-cultural dialogue, preserving heritage, and fostering global collaborations through art, literature, music, and festivals.

Latest Events View Activities
Blog - Mélange Read Articles